বৃহস্পতিবার, ০৩ এপ্রিল ২০২৫, ০৩:৩০ অপরাহ্ন
নিউজ ডেস্ক:
চাঁদপুরে কাজের মেয়ের উপর অমানুষিক নির্যাতনের দায়ে স্বামী-স্ত্রী দম্পতিকে পুলিশে সোপর্দ করেছেন এলাকাবাসী।
বৃহস্পতিবার (৬ মার্চ) চাঁদপুর পৌরসভার বিষ্ণুদী মাদ্রাসা রোডে ইকবাল গার্ডেন ভবনের চতুর্থ তলায় এ ঘটনা ঘটে।
ঘটনাস্থলে গিয়ে জানা যায়, তাঁরা স্বামী-স্ত্রী দম্পতি মোঃ রুবেল (৪০) পেশায় ব্যাবসা করেন এবং স্ত্রী রোকেয়া বেগম (৩৫) গৃহিনী ইকবাল গার্ডেনের চতুর্থ তলায় থাকেন। তারই আপন ভাগ্নী,(ভুক্তভোগী) রুজিনা আক্তার (১৬), পিতা- আহম্মদ ভূঁইয়া, মাতা- পারুল বেগম, চান্দ্রা চৌরাস্তা, মোল্লা বাড়ি, চাঁদপুর সদর।
নির্যাতিত রুজিনা আক্তার গণমাধ্যম কর্মীদের জানান, গত এক বছর যাবৎ তাকে এভাবে অমানুষিক নির্যাতন করে আসছেন তারা স্বামী-স্ত্রী দম্পতি। গত ৪ মাস আগে আসে এই বাসায়। এর আগে ঢাকায় ৮ মাসের মতো এদের সাথে ছিল, সেখানেও এইভাবেই মারধর করতো। পরবর্তীতে তাঁকে এখানে নিয়ে আসা হয়। রুজিনা জানান, দিনের পর দিন তাঁরা তাকে ঘরের মধ্যে আটকে রেখে নির্যাতন করতো। সে বয়সে ছোট এবং একটু আলাবোলা হওয়াতে তাদের সাথে কোনোকিছু করে উঠতে পারছিল না। তাঁদের নির্যাতনের কথা বলতে গিয়ে কান্না জড়িত কন্ঠে রুজিনা বলেন, আমার হাতের নখ, চোখে এবং পিঠসহ পুরো শরীরে আঘাত রয়েছে।
তাঁরা আমাকে খুন্তি দিয়ে ছেঁক দিতেন। যার কারণে শরীরে কালো স্পট পড়ে গেছে। মারাত্মকভাবে আমাকে মারধর করে তারা। পরে আজকে তাঁরা বাসায় ঢুকার আগেই আমি বাসা থেকে ভয়ে আগে থেকেই বের হয়ে গেছি। যার কারণে বেঁচে যাই।
এলাকাবাসী জানায়, মেয়েটির উপর এই অমানবিক নির্যাতন করার বিষয়টি আমরা জানতে পেরে সাথে সাথে পুলিশ ও সাংবাদিকদের খবর দেই। এরপর এলাকার সকল লোকজন জড় হয়ে তাঁদের স্বামী-স্ত্রী দম্পতিকে ঘরে আটকে রাখা হয়। এই ফাঁকে স্ত্রী রোকেয়া ঘর থেকে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে পুলিশ এসে স্বামী (রুবেল) তাঁকে ঘর থেকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। পরে স্ত্রী রোকেয়া বেগমও থানায় হাজির হলে চাঁদপুর মডেল থানা পুলিশ দুজনকেই আটক করে রাখেন।
এই বিষয়ে এলাকাবাসী জানায়, আমরা মেয়েটিকে নির্যাতনের উপযুক্ত শাস্তি দাবি করছি। যেন ভবিষ্যতে আর কেউ এই ধরনের কাজ না করে। আমরা তাঁদের স্বামী স্ত্রী দু’জনের উপযুক্ত শাস্তি চাই এবং সেই সাথে অসহায় মেয়েটিকে যেন চিকিৎসা করিয়ে সম্পূর্ণ সুস্থ্য করে তুলে সেই দাবি জানাচ্ছি।
এই বিষয়ে চাঁদপুর সদর মডেল থানার ওসি মোঃ বাহার মিয়া বলেন, তাঁদেরকে যেহেতু আটক করা হয়েছে, সেহেতু এদের অভিভাবক আসুক,তারপর তাদের সাথে কথা বলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানান।