৩০শে সেপ্টেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, ১৫ই আশ্বিন, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

স্বাস্থ্যবিধি না মানায় খুলনায় ৪৮ মামলা, জরিমানা

নগর বাংলা২৪ ডট কম:
৬৭
header

খুলনায় করোনা সংক্রমণ রোধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে প্রশাসন। সোমাবর (৫ এপ্রিল) লকডাউনের প্রথম দিন ৪৮ মামলাসহ ৩৯ হাজার ৯০০ টাকা জরিমানা আদায় করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

খুলনা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হেলাল হোসেনের নির্দেশে ও অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. ইউসুপ আলীর তত্ত্বাবধানে জেলায় করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণকল্পে অভিযান পরিচালনাকালে এসব মামলা ও জরিমানা আদায় করা হয়।

প্রথম দিনে নগরীতে মানুষের উপস্থিতি ও যান চলাচল কম ছিল। নগরীর রুপসা ঘাটে সাধারণ মানুষের আনাগোনাও ছিল না আগের মত। প্রয়োজনীয় কাজ ছাড়া রুপসা নদীর ওপার থেকে শহরমুখী হচ্ছে না কেউ। প্রতিটি ট্রলারের যাত্রীরা নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে মুখে মাস্ক পরে নদী পারাপার করছে।

রুপসা ঘাটের ট্রলার মাঝি মো. মোছাদ্দেক বলেন, ‘ভোর থেকে প্রতিটি ট্রলারে ১২ জন করে যাত্রী পারাপার করছেন তারা। সাথে সাথে মাস্ক ছাড়া কোনো যাত্রী ট্রলারে তুলছেন না।

রপসার নৈহাটি এলাকার বাসিন্দা বিল্পব লকডাউনের ভেতরেই ট্রলারে নদী পার হয়ে জরুরি কাজে শহরে এসেছেন। তিনি বলেন, ‘করোনার কারণে ট্রলারে যাত্রী কম নিচ্ছে আগে যেখানে ২৫ জন যাত্রী নিয়ে পারাপার করতো এখন নিচ্ছে মাত্র ১২-১৩ জন। করোনা সংক্রমণ রোধে এটি একটি ভালো উদ্যোগ, তবে জন প্রতি পাঁচ টাকা বেশি নিচ্ছে যেটা অনেক গরিব মানুষের জন্য কষ্ট হবে।

ভোর থেকে রুপসা ঘাটের পল্টনে হ্যান্ড মাইক হাতে জনসাধারণকে সচেতন করার জন্য দায়িত্ব পালন করছেন রুপসা ঘাট মাঝি ইউনিয়নের সহ-সাধারণ সম্পাদক মো. শাহাদাত মুনসি। তিনি বলেন, ‘ভোর থেকে ১২০ ট্রি ট্রলার স্বাস্থ্যবিধি মেনে যাত্রী পারাপার করছে। ভোরের দিকে মানুষের চাপ একটু বেশি থাকলেও সকাল হতেই তা কমে গেছে।

তিনি আরও বলেন, প্রতিটি ট্রলারের যাত্রী ও চালকদের মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে, প্রত্যেক ট্রলারে সর্বোচ্চ ১৩ জন যাত্রী পারাপার করা হচ্ছে। সেই সাথে তিন টাকা থেকে ভাড়া বাড়িয়ে জনপ্রতি পাঁচ টাকা করা হয়েছে।

এদিকে রুপসা ঘাটে হাত ধোয়ার জন্য দুটি বেসিনের ব্যবস্থা থাকলেও তার একটি অকেজো হয়ে পড়ে রয়েছে। এ বিষয়ে রূপসা ঘাটের টাকা কালেকশনের জন্য দায়িত্বরত যুবকদের সাথে কথা হলে তারা বলেন, দুটি বেসিন থাকলেও একটিতে পানির ব্যবস্থা নেই তবে অপর বেসিনে বাইরে থেকে পাইপের মাধ্যমে হাত ধোয়ার পানির ব্যবস্থা করা হয়েছে।

জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দেবাশীষ বসাক বলেন, ‘করোনা ভাইরাসজনিত রোগের বিস্তার রোধে সরকারি নির্দেশনা যথাযথ বাস্তবায়ন নিশ্চিতকল্পে খুলনা জেলা প্রশাসন কর্তৃক ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা অব্যাহত রয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় উপজেলাসমূহে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন নিজ নিজ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী কমিশনাররা (ভূমি)। একই সময়ে মহানগরে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের নেতৃত্বে অভিযান পরিচালিত হয়।

এ সময় সাধারণ মানুষকে মাস্ক পরিধানসহ স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণের আহ্বান জানানো হয়। স্বাস্থ্যবিধি না মানলে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের ব্যাপারে প্রচারণা চালানো হয়। সরকারি নির্দেশনা প্রতিপালন না করায় খুলনা মহানগরে মোট ৪৮ মামলায় ৩৯ হাজার ৯০০ টাকা জরিমানা করা হয়।

After Related Post