১৪ই আগস্ট, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, ৩০শে শ্রাবণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

স্বামীর মরদেহ দাফন করতে এসে আটক স্ত্রী

নগর বাংলা২৪ ডট কম:
৩৭
header

নগরবাংলা নিউজ ডেস্ক।।

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে স্বামী দেলোয়ার হোসেনের (২৮) মরদেহ দাফন করতে আনেন গার্মেন্ট কর্মী স্ত্রী। কিন্তু মরদেহে আঘাতের চিহ্ন দেখে নিহতের স্বজনদের সন্দেহ হলে পুলিশে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নিহতের স্ত্রী হাজেরা আক্তার ও তার সঙ্গে আসা আরও ৫ জনকে আটক করে।

রোববার (২০ মার্চ) দুপুরে উপজেলার রাজিবপুর ইউনিয়নের উজানচর এলাকার যাদুয়ার চর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত দেলোয়ার হোসেন ওই এলাকার মৃত মজিবুর রহমানের ছেলে।

ঈশ্বরগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক মো. রেজাউল করিম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, স্থানীয়দের কাছে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করি। প্রতিবেদনে শরীরের বিভিন্ন জায়গায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। এসব চিহ্ন দেখে মৃত্যুর বিষয়টি রহস্যজনক মনে হয়েছে। এছাড়াও মরদেহের সঙ্গে কোনো মৃত্যুসনদ নেই। পরে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তবে ঘটনাস্থল গাজীপুর জেলার কোনাবাড়ি এলাকায় হওয়ায় মামলাও সেখানে হবে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানায় জানানো হয়েছে। আটকদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, দেলোয়ার হোসেন প্রায় চার বছর আগে বিয়ে করেন পাশের ঘাগড়া গ্রামের কসম উদ্দিনের মেয়ে মোসা. হাজেরা আক্তারকে। বিয়ের পর সংসারে অভাব অনটন দেখা দিলে চাকরি করতে দুজনেই গাজীপুরের কোনাবাড়ীর মইলা পুকুরপাড় এলাকায় চলে যান। সেখানে থেকে হাজেরা একটি গার্মেন্টে ও দেলোয়ার হোসেন শ্রমিকের কাজ করছিলেন।

নিহতের স্বজনরা জানান, সম্প্রতি হাজেরা আক্তার চলাফেরা ও আচরণে বেপরোয়া হয়ে ওঠেন। এসব নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মাঝে ঝগড়ার এক পর্যায়ে কয়েক মাস আগে দেলোয়ার বাড়িতে চলে আসেন। পরে স্ত্রী হাজেরা শ্বশুরবাড়িতে এসে বুঝিয়ে তাকে নিয়ে যান। কিন্তু বেশিদিন পার হয়নি। আবারও ঝগড়া শুরু হয়।

শনিবার রাত ১২টার দিকে দেলোয়ার ভিডিওকলে তার মায়ের সঙ্গে কথা বলেন। এর কয়েক ঘণ্টা পরই হাজেরা ফোন করে দেলোয়ারের অসুস্থতার কথা বলে হাসপাতালে নিয়ে যাচ্ছেন বলে জানান। পরদিন রোববার (২০ মার্চ) দুপুর ১২টার দিকে অ্যাম্বুল্যান্সে করে দেলোয়ারের মরদেহ নিয়ে শ্বশুরবাড়িতে হাজির হন হাজেরা। সঙ্গে আসনে দুই বোন, এক বোন জামাই, ভাবি ও ভাই।

এ সময় মরদেহের বুকে, মাথায় ও মুখে আঘাতের চিহ্ন দেখেন স্বজনরা। পরে তারা পুলিশে খবর দেন।

After Related Post