১৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ৩রা আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

সংবাদ প্রকাশের পর সেই কাজল রেখার পাশে দাঁড়ালেন তিতাস ইয়াং ফ্রেন্ডস ক্লাব

নগর বাংলা২৪ ডট কম:
header

নিউজ ডেস্ক।।

কাজল রেখা বয়স (৩০)। পিতা মৃত জিলু মিয়া। কুমিল্লা তিতাস উপজেলার বলরামপুর ইউনিয়নের গাজীপুর গ্রামের পশ্চিম চকের বাড়ি ছোট্ট একটি দোচালা টিনের ঘরে বসবাস তার। চার বোনের মধ্যে সে দ্বিতীয়। নেই ভাই ও বাবা। গরীব হওয়ায় কম বয়সেই বিয়ে দেয় কাজল রেখাকে। হাসি খুশিতেই চলছিলো সুন্দর সংসার এবং তাদের ঘরে জন্ম নেয় একটি কন্যা সন্তান। এই ভাবেই ৭/৮ বছর কেটে যায় তার। হঠাৎ আরেকটি সন্তান জন্ম দিতে গিয়ে অসুস্থ হয়ে পরে কাজল রেখা। তারপরও বাঁচাতে পারে নেই গর্ভে থাকা পুত্র সন্তানকেও। এর পরেই কাজল রেখার জীবনে নেমে আসে অন্ধকার। ছেড়ে চলে যায় পাষণ্ড স্বামী। কে জানে তার শরীরে বাসা বেঁধেছে মারাত্মক এক ব্যাধি।

অনেক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর জানা যায় সে কিডনি রোগে আক্রান্ত। নষ্ট হয়ে গেছে একটি কিডনি এবং নষ্ট হওয়ার পথে দ্বিতীয়টি। এদিকে ছেলে ও স্বামী হারা কাজল রেখার মা ফাতেমা অভাবগ্রস্ত থাকায় নিজের ভরণ পোষন নিয়ে হতাশাগ্রস্থ হয়ে পড়েছে। আবার কিভাবে চালাবে মেয়ের চিকিৎসা। এছাড়াও দিনদিন বড় হচ্ছে অসুস্থ কাজল রেখার মেয়ে সোহাগী (১২)। তা নিয়েও দুর্চিন্তা ভুগছে নানী ফাতেমা।

আর তার এই দুরাবস্থা নিয়ে “বাঁচতে চায় কাজল রেখা পরিবারের সাধ্য নেই” এমন হেডলাইনে গত কয়েকদিন আগে প্রিন্ট মিডিয়া ও অনলাইন নিউজ পোর্টালে সচিত্র সংবাদ প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হলে বিষয়টি নজরে পড়ে বিভিন্ন সেচ্ছাসেবী সংগঠনের।

তারই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার (১৮ জুলাই) সকালে কাজল রেখার বাড়িতে গিয়ে তার চিকিৎসার জন্য নগদ ১০ হাজার টাকা ও খাওয়ার জন্য ৫০ কেজি চাল, ৫ কেজি ডাল, ৫ কেজি তেল, ৫ কেজি আলু ও ২ কেজি পেঁয়াজ প্রদান করেছে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন “তিতাস ইয়াং ফ্রেন্ডস ক্লাব” এর সংগঠনের সদস্যরা।

এসময় উপস্থিত ছিলেন, সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা রুবেল আহমেদ খান রাজ, প্রতিষ্ঠাতা সদস্য, দেলোয়ার হোসেন, সুলতান সওদাগর, চান বাদশা মোল্লা,সোহাগ সরকার, ইয়াছিন ভূইয়া,আরমান, চান বাদশা, বাবু, রবিউল, হাসান, রিপন, রুহুল আমিন, মামুন প্রমূখ। এছাড়া অতিথি হিসেবে ছিলেন, রাশেদ জামান ও জালাল মুন্সি।

কাজল রেখা আবেগ আপ্লুত কন্ঠে বলেন, আমার এই অসহায় অবস্থা দেখে যারা সাহায্য সহযোগিতা করছেন তা আমি জীবনেও ভুলবো না এবং চির ঋনী হয়ে থাকবো।

এদিকে তিতাস ইয়াং ফ্রেন্ডস ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা রুবেল আহমেদ খান রাজ বলেন, আমাদের সংগঠনর কাজ হলো অসহায়, দরিদ্রের পাশে দাঁড়ানো। তারই ধারাবাহিকতায় গনমাধ্যমে কাজল রেখার অসহায় অবস্থার সংবাদ দেখে বিষয়টি আমার নজরে আসে। তবে সামান্যতম হলেও এই অসহায় মানুষটির পাশে দাঁড়াতে পেরে আমার খুশি। ইনশাআল্লাহ এভাবে যেনো সারা জীবন এমন অসহায় ও দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়াতে পারি সবার কাছে দোয়া চাচ্ছি।

After Related Post