৩০শে সেপ্টেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, ১৫ই আশ্বিন, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

শেফস টেবিলের ৩৬ রেস্টুরেন্টে ভ্যাট ফাঁকির মহোৎসব

নগর বাংলা২৪ ডট কম:
৬৯
header

রাজধানীর মাদানি এভিনিউয়ের ফুডকোর্ট শেফস টেবিলের ৩৬টি রেস্টুরেন্টে অভিযান চালিয়ে ভ্যাট ফাঁকির মহোৎসব দেখতে পেয়েছে ভ্যাট গোয়েন্দা অধিদফতর। সোমবার (২৯ মার্চ) নিরীক্ষা, গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতরের (মূল্য সংযোজন কর) মহাপরিচালক ড. মইনুল খান এ তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি জানান, অধিদফতরের গোয়েন্দা কর্মকর্তারা ২২ মার্চ শেফস টেবিলে অভিযানটি পরিচালনা করেন। সহকারী পরিচালক মুনাওয়ার মুরসালীন অভিযানে নেতৃত্ব দেন।

শেফস টেবিল ইউনাইটেড গ্রুপের আয়োজনে একটি ফুডকোর্ট। এটি ইউনাইটেড সিটি, মাদানি এভিনিউ, সাঁতারকুল, বাড্ডায় অবস্থিত। রাজধানীর ভোজন-রসিকদের একটি প্রিয় খাবারের সমাহার। এই ফুডকোর্টে বিভিন্ন ব্রান্ডের ৩৬টি খাবারের দোকান রয়েছে। এটি উদ্বোধন করা হয় ২০১৯-এর ডিসেম্বর মাসে।

অভিযান সূত্রে অনুসন্ধানে দেখা যায়, শুরু থেকে ফেব্রুয়ারি ২০২১ পর্যন্ত ১১ মাসে মোট ১৭ কোটি ৫৯ লাখ টাকার বিক্রি তথ্য গোপন করা হয়েছে।করোনার কারণে ফুডকোর্টটি ২০২০ সালের এপ্রিল থেকে জুন তিন মাস বন্ধ ছিল। ওই ১১ মাসে ৩৬টি রেস্টুরেন্টে প্রকৃত বিক্রয় ছিল ২৩ কোটি ৪৯ লাখ টাকা এবং ভ্যাটযোগ্য মূল্য ছিল ২০ কোটি ৪২ লাখ টাকা।

এই ৩৬টি রেস্টুরেন্ট পৃথকভাবে ভ্যাট রিটার্নে প্রদর্শন করেছে ২ কোটি ৮৩ লাখ টাকার বিক্রয়। তাদের অপ্রদর্শিত সেলসের পরিমাণ ১৭ কোটি ৫৯ লাখ টাকা। এসব রেস্টুরেন্টের এই গোপনকৃত বিক্রয়ের ওপর ভ্যাট ফাঁকি হয়েছে ২ কোটি ৬১ লাখ টাকা।

মইনুল খান জানান, রেস্টুরেন্টগুলো খাবার বিক্রির সময়ে ক্রেতাদের নিকট থেকে ভ্যাট আদায় করেছিল। কিন্তু জনগণের নিকট থেকে আদায়কৃত ভ্যাট সরকারি কোষাগারে জমা দেয়নি।

অভিযানে গোয়েন্দা দল ইউনাইটেড গ্রুপের শেফস টেবিলের কম্পিউটারের তথ্য ও অন্যান্য বাণিজ্যিক দলিলাদি জব্দ করে। শেফস টেবিল প্রতিটি রেস্টুরেন্ট থেকে ১৮ শতাংশ রেভিনিউ শেয়ারিং করে। এই তথ্যাদি ও রেস্টুরেন্টের রিটার্ন যাচাই করে এই হিসাব বের করা হয়েছে।

মইনুল খান আরও জানান, সবচেয়ে বেশি ফাঁকি দিয়েছে আফগান গ্রিল- ২৩ লাখ ৭১ হাজার টাকা, দরবার ক্যাটারিং- ১৫ লাখ ৭৪ হাজার টাকা, টরকা এক্সপ্রেস- ২৪ লাখ ৬০ হাজার টাকা, পাঞ্জাব কিচেন- ১৪ লাখ ৪ হাজার টাকা, থাই এমারেল্ড- ১৩ লাখ ৩৯ হাজার টাকা, অ্যাবসলিউট থাই- ১২ লাখ ৫৩ হাজার টাকা, সিলান্ট্রো- ১২ লাখ ৫৯ হাজার টাকা, পিৎজা গাই- ১২ লাখ ১৯ হাজার টাকা, আলফ্রেসকো- ১১ লাখ টাকা।

ভ্যাট ফাঁকির অভিযোগে প্রত্যেকটি রেস্টুরেন্টকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে ভ্যাট আইনে মামলা দায়েরের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

একই সঙ্গে ভবিষ্যতে ভ্যাট ফাঁকি রোধে শেফস টেবিলের প্রতিটি রেস্টুরেন্টে ইলেকট্রনিক ফিসকাল ডিভাইস প্রবর্তনের জন্য ভ্যাট গোয়েন্দা ঢাকা উত্তর কমিশনারেটকে অনুরোধ করেছেন বলেও জানান মইনুল খান।

After Related Post