৮ই অক্টোবর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, ২৩শে আশ্বিন, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

মুরাদনগরে নতুন সবজি স্কোয়াশ চাষে কৃষকের সফলতা

নগর বাংলা২৪ ডট কম:
১৫৮
header

কুমিল্লার মুরাদনগরে চাষ হয়েছে নতুন জাতের সবজি স্কোয়াশ। থাইল্যান্ড-ভিয়েতনামে সুপরিচিত এ সবজি চাষ করেছেন সদর উপজেলার ভ’বনঘর গ্রামের বাসিন্দা সামসুল হক। রকমারি সবজি চাষি সামসুল হক স্কোয়াশ চাষ করে সফলতা পেয়েছেন। শীত মৌসুমে অন্যান্য সবজির পাশাপাশি স্বল্প পরিমাণ জমিতে পরীক্ষামূলক স্কোয়াশ চাষ করে একদিকে যেমন সফলতা পেয়েছেন, অন্যদিকে লাভবানও হয়েছেন তিনি। নতুন এই সবজি চাষে চাষিরা সফল হলেও স্কোয়াশ চাষে তেমন ধারণা নেই জানালেন স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তা।
চাষি সামসুল হক উপজেলার ধামঘর ইউনিয়নের ভ’বনঘর গ্রামের মৃত সোনা মিয়ার ছেলে।

চাষি সামসুল হক জানান, বেশ কয়েক বছর ধরে ঝিঙ্গা, লাউ, মূলা, টমেটো, বাঁধা ও ফুল কপিসহ বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষ করে থাকেন। ইউটিউবে স্কোয়াশ চাষ দেখে নিজে চাষ করার জন্য আগ্রহী হন। পরে উপজেলার কৃষি কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করলে কৃষি কর্মকর্তা এই নতুন সবজি চাষে আরো উৎসাহিত করেন এবং সব ধরনের সহযোগীতার আশ্বাস দেন। উনার পরামর্শে প্রাথমিকভাবে পরীক্ষামূলক স্কোয়াশের বীজ নেন। বাড়িতে মিষ্টি কুমড়া বা লাউয়ের মতো বীজ বপন করে গাছ গজিয়ে পরে জমিতে রোপন করেন। প্রায় দেড় মাস পর ফল আসতে শুরু করে। স্কোয়াশ গাছ একদম মিষ্টি কুমড়ার মতো।

চাষির তথ্য মতে, বীজ ক্রয়, জমি প্রস্তুত, লাগানো এবং সার, কীটনাশকসহ দশ শতক জমিতে পাঁচ হাজার টাকার মত খরচ হয়েছে। জমি থেকে কিছু স্কোয়াশ বিক্রি করেছেন। আরো কিছুদিন পর পুরোপুরি বিক্রি শুরু করবেন। এই জমি থেকে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকার স্কোয়াশ বিক্রি করতে পারবেন বলে জানিয়েছেন। তিনি আরো জানান, প্রথম চাষ, তাই পরিচর্চা বুঝতে একটু সমস্যা হয়েছে এবং খরচ কিছুটা বেশি হয়েছে। স্বল্প খরচে অধিক লাভ হওয়ায় আগামীতে আরো বেশি পরিমাণ জমিতে এই স্কোয়াশ চাষ করবেন।

পাতা, ডগা দেখে বোঝার উপায়ই নেই এটি মিষ্টি কুমড়া নাকি স্কোয়াশ গাছ। মিষ্টি কুমড়া গোল হলেও স্কোয়াশ দেখতে বাঙ্গির মতো লম্বা। স্বাদে ও পুষ্টিতে মিষ্টি কুমড়ার মতো। তবে মিষ্টি কুমড়ার গাছ অনেক লম্বা হলেও স্কোয়াশের গাছ সর্বোচ্চ এক-দেড় ফিট পর্যন্ত লম্বা হয়ে থাকে। এই সবজি পাহাড়ি এলাকা এবং বিভিন্ন দেশে চাষ হলেও দেশের এই অঞ্চলে এটি একেবারেই নতুন বলছেন কৃষি কর্মকর্তা। স্কোয়াশ মুরাদনগর উপজেলায় প্রথমবার চাষ হয়েছে দু’-একটি জায়গায়।

মুুরাদনগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাঈন উদ্দিন আহমেদ সোহাগ বলেন, স্কোয়াশ একটি বিদেশী সবজি। এই সবজি চাষে কৃষকদের তেমন ধারণা নেই। এই এলাকায় যে দু-একজন চাষ করেছেন- তারা সফল ও লাভবান হয়েছেন। তাদের দেখাদেখি অনেকেই অফিসে আসছেন পরামর্শ নিতে। স্কোয়াশ চাষ বেশ লাভজনক। আশা করছি, আগামী মৌসুমে ব্যাপক আকারে স্কোয়াশ চাষ হবে। এছাড়া ব্রকলি, ক্যাপসিকাম, রেড ক্যাবেজ ইত্যাদি বিদেশী সবজি চাষে কৃষকদের উৎসাহিত করছেন ও নিয়মিত বিভিন্ন ধরনের কৃষি পরামর্শ দিচ্ছেন বলেও তিনি জানান।

After Related Post