৮ই অক্টোবর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, ২৩শে আশ্বিন, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

মনোহরগঞ্জের উত্তর হাওয়ালা : মনির ও হিরন এবারের প্রার্থী

নগর বাংলা২৪ ডট কম:
১০৭
header

মনোহরগঞ্জ প্রতিনিধি।।

মনোহরগঞ্জের ১১টি ইউনিয়নের মধে উত্তর হাওলা ইউনিয়নের বর্তমান নির্বাচিত চেয়ারম্যান মোঃ আব্দুল হান্নান হিরন চলতি দায়িত্ব পালন করছেন। আগামী নির্বাচনে তিনি প্রার্থিতা চাইবেন। তবে সাধারন মানুষদের মনোভাবটা বদলে গেছে। বিগত দিনে যত কাজ করেছেন তার সবটাই ছিল সরকারী রুটিন ওয়ার্ক। দৃশ্যমান যত উন্নয়ন- তার পুরোটাই দাবীদার মাননীয় সাংসদ। পছন্দের তালিকায় রেখেছেন জনগণ। তবে এবার ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের বর্তমান সভাপতি মনিরুজ্জামান ভ‚ইয়া।এছাড়াও আছেন সাধারন সম্পাদক শামসুল আলম মজুমদার।

অনেক গুলো পজেটিভ বিষয়কে প্রাধান্য দিয়ে লাকসামের ৮টি ইউনিয়ন ও মনোহরগঞ্জের ১১টি ইউনিয়নের সম্ভাব্য প্রার্থিরা নিরবে জনসংযোগ করে যাচ্ছেন। তবে এবার দলীয় প্রতীকে নির্বাচনের জন্য দলের সিনিয়র নেতা ও নীতি নির্ধারকদের কাছে ধর্না দিচ্ছেন। তবে শেষ অব্দি কার ভাগ্যে নৌকার টিকেট জুটবে- সেটা সময়ের ব্যাপার। উল্লেখ্য যে, কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ উপজেলার ১১টি ইউনিয়নের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ইউনিয়ন উত্তর হাওলা ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ডের ভোটার মোঃ মনিরুজ্জামান ভুইয়া। তিনি বলেন, আমার অতীতের পলিটিকেল ক্যারিয়ার ও এলাকার গ্রহণযোগ্যতার বিষয়টি বিবেচনায় আনলে আমি ইনশাআল্লাহ দল থেকে নমিনেটেড হতে পারবো এবার।

৪৬ বছরের মোঃ মনিরুজ্জামান ভুইয়া। প্রবীন আওয়ামী লীগের সভাপতি রফিকুল হোসেন ভুইয়ারসন্তান। বেড়ে উঠেছেন এই জনপদে। পড়াশোনা শেষ করেছেন খিলা হাইস্কুলে। ছাত্র অবস্থায় ছাত্র লীগের রাজনীতি করতেন এর পর যুবলীগের সাথে সম্পৃক্ত হন। ১৯৮৮ খেকে ২০০৪ পর্যন্ত টানা দের যোগ যুবলীগের রাজনীতি করতেন। আর তখন বৃহত্তম লাকসাম থানার রাজনীতির সাথে জরিয়ে পরলে এমপি তাজুল ইসলামের সান্নিধ্যে চলে অসেন। ২০০৫ থেকে মনোহরগঞ্জ উপজেলার কমিঠি সদস্য হন। ২০০৬ থেকে ২০১৩ পর্যন্ত উত্তর হাওলার ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হন। সব শেষে ২০১৮ থেকে পুনরায় সভাপতি নির্বাচিত হয়ে এখন পর্যন্ত দায়ীত্ব পালন করছেন।

এদিকে বর্তমান চেয়ারম্যান হিরন বলেন, বিগত দিনে তার সিমাবদ্ধতার মধ্যে উন্নয়নের প্রতিটি ক্ষেত্রে সফলতা লাভ করেছেন প্রায় ৯০%, এ দাবী তার। মাননীয় মন্ত্রীর দিক নির্দেশনায় প্রতিটি উন্নয়ন কর্মকান্ডে স্বচ্ছতার মধ্য দিয়ে সমাপ্ত করেছেন। কোন অনিয়ম তার পরিষদের হয়নি বিগত বছর গুলোতে। বরং সাধারণ মানুষকে সেবার মনোভাব নিয়ে সহযোগীতা করে আসছেন। তিনি বলেন, উন্নয়নের রোল মডেলের প্রতীক নিয়ে ডিজিটাল বাংলাদেশ নির্মাণে আগামীতে কাজ করার ইচ্ছে আমার।

মনোহরগঞ্জ উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন বর্তমান। লাকসামে ৮ টি। এর মাঝে মুদাফফরগঞ্জ উত্তর-দক্ষিণ ও বাকই ইউপি নির্বাচন চলতি বছর হচ্ছে না। আর এখানকার সাংসদ এলজিইডি মন্ত্রী মোঃ তাজুল ইসলাম এমপি। তার সাংসদীয় এলাকা ২টি। লাকাসাম ও মনোহরগঞ্জ। ইতিমধ্যে মন্ত্রীর দিক নির্দেশনা ও পৃষ্টপোষকতায় যথেষ্ঠ উন্নয়ন সাধন করা হয়েছে। এখানকার রাস্তাঘাট, বিদ্যুৎ, অবকাঠামো উন্নয়নে যথেষ্ট দৃশ্যমান। সবকটি চেয়ারম্যান সরকার দলীয়। আগামী ইউপি নির্বাচনের বর্তমান চেয়ারম্যান ছাড়াও আরো কয়েকজন দল থেকে নমিনেটেড হতে চাইছেন।

দলীয় ছাড়াও আওয়ামী লীগের প্রার্থীরাও সমান ভাবে নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন। তবে এবার আশার কথা যে, কাউকেই বিদ্রোহী প্রার্থী বলে আখ্যায়িত করা হবে না। জনগণ যাকেই পছন্দের তালিকায় রাখবেন তারা সবাই অংশ নিতে পারবেন। এমন সিদ্ধান্ত দলীয় ভাবে গৃহীত হয়েছে কদিন আগে। আর সে আলোকে মনোহরগঞ্জ উপজেলার বাইশগাঁও ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মোঃ আলমগীর হোসেন, হাসনাবাদেরমোঃ কামাল হোসেন, ঝলম উত্তর ইউনিয়নের মোঃ ইকবাল হোসেন, ঝলম দক্ষিণ ইউনিয়নের মোঃ জিয়াউর রহমান, মৈশাতুয়া ইউনিয়নের মোঃ মোস্তফা কামাল, লক্ষণপুর ইউনিয়নের মোঃ মহিউদ্দিন, খিলা ইউনিয়নের মোঃ আল-আমিন, উত্তর হাওলা ইউনিয়নের মোঃ আবদুল হান্নান হিরন, নাথের পেটুয়া ইউনিয়নের মোঃ রুহুল আমিন সহ বিপুলাসার ইউনিয়নের মোঃ সাইদুর রহমান নির্বাচনে অংশ নেওয়ার কথা শোনা গেছে। তবে পাশাপাশি আরো ২/৩ জনের নাম বাজারে চায়ের টেবিলে আলোচনায় আছে।

এদিকে সারা দেশে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের সকল প্রস্তুতি ইতি মধ্যেই নির্বাচন কমিশন গ্রহণ করেছেন। মার্চ থেকে শুরু করে জুন মাসের শেষ নাগাদ ধারাবাহিক ভাবে গত বারের মত ৫ ধাপে নির্বাচন শেষ করতে চান স্থানীয় মাঠ প্রশাসন। দেশে বর্তমানে ৪ হাজার ৫৭১ টি ইউনিয়ন পরিষদ বিদ্যমান। ২০১৬ সালে ২২ শে মার্চ শুরু হয়ে ৪ জুন পর্যন্ত কয়েক ধাপে নির্বাচন সমাপ্ত করে সরকার। স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন অনুসারে মেয়াদ শেষ হওয়ার ১৮০ দিন পূর্বে পরবর্তী পরিষদের গ্রহণযোগ্যতা থাকে। আর সেই আলোকে কুমিল্লা ১৮ টি উপজেলার ৩১২ টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের জন্য ইতিমধ্যেই কুমিল্লার মাঠ প্রশাসনকে নির্দেশনা পাঠিয়েছেন সি.ই.সি। এর মধ্যে লাকসাম উপজেলার ৫টি ইউনিয়ন পরিষদ ও মনোহরগঞ্জের ১১ টি ইউনিয়ন অন্যতম।

এদিকে বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়, এবার যারা মনোনয়ন প্রত্যাশি সবাইআওয়ামী দলীয় নেতা কর্মী। দীর্ঘ দিন যাবৎ এ এলাকার নীতি নির্ধারক সরকারের এলজিইডি মন্ত্রী মোঃ তাজুল ইসলাম এর সংসদীয় নির্বাচনে নিবেদিত কর্মী ছিলেন। এবং তারা আজও তার হয়ে এলাকায় কাজ করে যাচ্ছেন। লাকসাম ও মনোহরগঞ্জ উপজেলার সার্বিক উন্নয়নে মাননীয় মন্ত্রী অবদানের কথা কথা সবাই এক বাক্যে প্রশংসিত করেছেন। তবে কাকে রেখে কাকে দলীয় টিকেট দেবেন- তা নিয়ে ঝল্পনা কল্পনার শেষ নেই। ১১টি ইউনিয়নের সকল প্রার্থীরাই মনে করেন তারা মন্ত্রীর পছন্দের মানুষ। এই পছন্দের প্রার্থীতা বাছাই করতে তৃণমূলের নেতা কর্মীদের কাউন্সিল অধিবেশন কিংবা বর্ধিত সভার মধ্য দিয়ে দলীয় ভাবে নমিনেটেড করলে কোন বিদ্রোহী প্রার্থীর আগমন ঘটবে না। সবাই তার জন্য এক হয়ে কাজ করবেন। এ বিষয়ে মোঃ মনিরুজ্জামান ভুইয়াবলেন, দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে যাবার তেমন কোন সুযোগ নাই। মাননীয় মন্ত্রী মহোদয় যে সিদ্ধান্ত দেবেন বা যাকে দল থেকে নমিনেটেড করবেন, আমরা তার জন্যই কাজ করে যাবো আগামী দিন গুলোতে। এবং নৌকার প্রার্থীকে বিজয় করতে নিশ্চিত করবো। পাশাপশি জননেত্রী শেখ হাসিনার এবারের প্রতিপাদ্য- “আমার গ্রাম-আমার শহর” বাস্তবায়িত করতে আমি বদ্ধ পরিকর।

তবে সকল প্রার্থিরাই এক বাক্যে বলেন, এখানকার সকল উন্নয়নের কেন্দ্র বিন্দু আমার মাননীয় সাংসদ তাজুল ইসলাম এমপি ও উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান আমিরুল ইসলামএর দিক নির্দেশনা ও পৃষ্টপোষকতায় উন্নয়নের ধারাবাহিকতা অব্যহত রাখার চেষ্টা করবো।যদি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হই- তাহলে স্বচ্ছতার মধ্যেই কাজ করে যাবো জনগণের জন্য।

এদিকে ১৭ হাজার ভোটারদের মাঝে ৩০% নবীন এবং তরুণ ভোটাররা আগামীতে জিয়াউর রহমান কে পুনরায়চেয়ারম্যান নির্বাচনে জয়ী করতে তার পিছনে একাট্টা। ১৯৯১ থেকে আওয়ামী ঘরোনার রাজনীতিতে সম্পৃক্ত থাকার কারণে মাননীয় এমপির পছন্দের মানুষদের মাঝে মোঃ মনিরুজ্জামান ভুইয়া অন্যতম। ১/১১ এর দুঃসমেয়ে অনেক নেতা কর্মীরা গা বাচাতে অন্যত্র চলে গেলেও মনিরুজ্জামান এলাকায় থেকে যান। তিনি বলেন সবাই চলে গেলেও আমি থেকে যাব আমার এমপি সাহেবের হাত ধরে। কেন না তার হাত ধরে আমি আজ আওয়ামী রাজনীতিতে অটল।মোঃ মনিরুজ্জামান ভুইয়াবলেন, আমি সারাজীবন বঙ্গবন্ধুর আদর্শ লালন করে আসছি। আমার নেত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা আর আমার প্রিয় নেতা মাননীয় মন্ত্রী তাজুল ইসলাম। জীবনে কোনদিন দলের সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে রাজনীতি বাণিজ্য করি নাই। দরবার-শালিস বিচারে কোন পক্ষপাতিত্ব করি না। আর কোন গ্রুপিংয়ের রাজনীতি আমি করি না। কাউকে করতে উৎসাহ দেই না। আমার শুধু একটাই গ্রুপ আর তা হল জননেত্রীর শেখ হাসিনার উন্নয়নের রাজনীতির পাশাপশি জনগণের সেবা প্রদান করা।

After Related Post