১০ই আগস্ট, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, ২৬শে শ্রাবণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

বুড়িচং হাসপাতালে গৃহবধূর মরদেহ রেখে পালালেন স্বামী ও শাশুড়ি

নগর বাংলা২৪ ডট কম:
১৪
header

নগরবাংলা নিউজ ডেস্ক।।

কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গৃহবধূ মনি আক্তার (২৩) এর মরদেহ রেখে পালালো স্বামী ও শাশুড়ি।

নিহত গৃহবধূর মা শাহিনা আক্তারের অভিযোগ নির্যাতনের পর হত্যা করে আত্মহত্যার প্রচারণা চালিয়ে আসল রহস্যকে ধামাচাপার চেষ্টা করছে স্বামী ও তার পরিবার।

ঘটনাটি ঘটেছে রোববার (১২ জুন) সকালে উপজেলার খাড়াতাইয়া গ্রামের বড় বাড়িতে।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, জেলার বুড়িচং উপজেলার ষোলনল ইউনিয়নের খাড়াতাইয়া বড় বাড়ির আবুল কাসেমের ছেলে মোঃ শাহ পরাণের সাথে পাশের উপজেলা ব্রাহ্মণপাড়ার সাহেবাবাদ ইউনিয়নের জিরুইন গ্রামের মঞ্জুরুল হক ভূঁইয়ার মেয়ে মনি আক্তারের সঙ্গে বিবাহ্ বন্ধনে আবদ্ধ হয়। তাদের সংসারে আড়াই বছরের একটি পুত্র সন্তানও রয়েছে।

স্থানীয়দের বরাত দিয়ে পুলিশ জানান, শাহ পরানের সাথে মনি আক্তারের বিবাহ্ হওয়ার পর থেকেই তাদের মধ্যে বনিবনা ছিলনা।স্বামী মাদকাসক্ত থাকায় স্ত্রীকে প্রায় সময় শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করতেন। স্বামীর নির্যাতনে অতিষ্ঠ হয়ে মনি আক্তার ২০২০ সালের ১৬ সেপ্টেম্বরে বাপের বাড়িতে চলে যায়। কয়েকমাস পর উভয়ে পরিবারের সাথে সামাজিকভাবে মিমাংসার মধ্য দিয়ে পুনরায় বাপের বাড়ি থেকে মনি আক্তারকে তার শ্বশুড়-শাশুড়ির বাড়িতে নিয়ে আসে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক সূত্রে জানা যায়, মনি আক্তারকে পুনরায় বাড়িতে আনার পর প্রায় সময় স্বামী শাহ পরাণের কৃর্তৃক নির্যাতনের শিকার হতেন। ঘটনার আগের দিনেও গৃহবধূকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করেছে বলে বাপের বাড়ির লোকজনের অভিযোগ রয়েছে। রোববার সাড়ে ৭টায় গৃহবধূ মনি আক্তারের মরদেহ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পড়ে থাকার খবর পেয়ে এসআই মোঃ আব্দুল জব্বার সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে প্রাথমিক সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মর্গে প্রেরণ করে।

তিনি জানান, নিহতের স্বামী ও শ্বাশুড়ি সকালে হাসপাতালে রেখে পালিয়ে যায়। নিহতের শ্বশুড় বাড়ির ঘরের তীরের সাথে ঝুলন্ত একটি উড়না উদ্ধার করে। স্বামীর পরিবারের ভাষ্যমতে মনি আক্তার আত্মহত্যা করেছে। তবে স্থানীয়দের ভাষ্যমতে জানা যায়, গৃহবধূর মৃত্যুতে রহস্য রয়েছে। নিহত মনি আক্তারের মায়ের অভিযোগ পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে মেয়ের মরদেহ হাসপাতালে রেখে স্বামীর পরিবার পালিয়েছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মৃত্যুর বিষয়টি নিয়ে চাঞ্চল্যকর পরিবেশ সৃষ্টি হয়।এখানে স্বামী ও শ্বশুড়, শাশুড়িকে পাওয়া যায়নি।

বুড়িচং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মারুফ রহমান জানান, খবর পেয়ে হাসপাতাল থেকে একটি গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুমেক মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে এবং ঘটনার কারণ ময়নাতদন্তের পর বলা যাবে। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

After Related Post