১০ই আগস্ট, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, ২৬শে শ্রাবণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

ফাঁদে ফেলে আপত্তিকর ছবি তুলে টাকা হাতিয়ে নিতেন তারা

নগর বাংলা২৪ ডট কম:
২৩
header

নগরবাংলা নিউজ ডেস্ক।।

রাজধানীর সবুজবাগ এলাকায় অভিযান চালিয়ে নিরীহ মানুষদের ফাঁদে ফেলে টাকা আদায় করা চক্রের পাঁচ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা (গুলশান) বিভাগ। গত নয় বছর ধরে এ চক্রটি ঢাকায় নারী সদস্যদের দিয়ে প্রেমের সম্পর্কের জের ধরে নিরীহ মানুষদের ফাঁদে ফেলতো।

শুক্রবার (২২ জুলাই) বিকেলে এসব তথ্য জানান গোয়েন্দা গুলশান বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মশিউর রহমান।

তিনি বলেন, চক্রের সদস্যদের ভাড়া করা বাসা-বাড়িতে নিয়ে নিরীহ মানুষদের আটক রেখে ভয়-ভীতি দেখিয়ে চাঁদা দাবি করা হতো। আর দাবি করা টাকা দিতে অস্বীকার করলে চক্রের নারী সদস্যদের সঙ্গে নিরীহ ভিকটিমের আপত্তিকর ছবি তুলে ভয় দেখিয়ে তাদের আত্মীয়-স্বজনের কাছ থেকে বিকাশের মাধ্যমে টাকা আদায় করতো চক্রটি।

ডিসি মশিউর রহমান বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গোয়েন্দা গুলশান বিভাগের এডিসি মো. কামরুজ্জামান সরদারের তত্ত্বাবধানে অভিযান পরিচালনা করা হয়। সহকারী পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ খলিলুর রহমানের নেতৃত্বে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও মাদক নিয়ন্ত্রণ টিমের একটি দল রাজধানীর সবুজবাগ থানাধীন নন্দীপাড়া দক্ষিণগাঁও এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে তাদের গ্রেফতার করে।

গ্রেফতাররা হলেন- মো. সাইফুল ইসলাম (৩২), মো. সজল তালুকদার (৩১), মোছা. বিথী আক্তার (২৭), মো. শফিকুল ইসলাম শান্ত (৩৫) ও ইভা (৩২)। এ সময় তাদের কাছ থেকে ৯০ হাজার টাকা, অপরাধের কাজে ব্যবহৃত রশি-লাঠি, ১২টি মোবাইল ফোন ও ১০টি সিম জব্দ করা হয়।

গ্রেফতার মো. সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে আরও সাতটি ও মোছা. বিথী আক্তারের বিরুদ্ধে ৩টি মামলা রয়েছে। সাইফুলের অন্য স্ত্রী আছে। প্রতারণার ব্যবসা চালানোর জন্যই সাইফুল ও বীথি আক্তার স্বামী-স্ত্রীর মতো একসঙ্গে থাকতো।

এর আগে, আটক রেখে ভয়-ভীতি দেখিয়ে চক্রের নারী সদস্যদের সঙ্গে আপত্তিকর ছবি তুলে বিকাশের মাধ্যমে টাকা আদায়ের ঘটনায় আলমগীর আহম্মেদ (৩২) নামের একজন ভুক্তভোগী যাত্রাবাড়ী থানায় মামলা করেন। মামলার পরে গুলশান গোয়েন্দা বিভাগ তদন্ত করে এ চক্রের পাঁচ সদস্যকে গ্রেফতার করে।

এ ঘটনায় মামলার বাদী ভিকটিম তার আত্মসম্মান রক্ষা ও আসামিদের হাত থেকে রেহাই পাওয়ার জন্য বাধ্য হয়ে দাবি করা চাঁদার টাকা গ্রেফতারদের দেওয়া বিকাশ অ্যাকাউন্ট নম্বর ০১৬৪১-৮২৮০০৬, ০১৭৪১-৩৬৫৯৮৬, ০১৭৫৭-৬২১১৭৯ এবং ০১৩১৪-০৭৭৬৩৬ তে মোট ৭০ হাজার টাকা পাঠান। এছাড়াও অন্যান্য মাধ্যমে তার থেকে মোট ১ লাখ ১১ হাজার টাকা নিয়ে নেয় চক্রের সদস্যরা।

After Related Post