১৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ৩রা আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

কুমিল্লায় টিকাদান কেন্দ্রে মানুষের উপচে পড়া ভিড়

নগর বাংলা২৪ ডট কম:
header

নেকবর হোসেন, কুমিল্লা প্রতিনিধি।।

কুমিল্লায় করোনার টিকা নিতে কেন্দ্রে উপচে পড়েছে মানুষ। সেখানে সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি মানার কোনো প্রবণতা দেখা যায়নি। জেলা সদর হাসপাতালসহ ১৭ টি উপজেলা একাধিক কেন্দ্রে এই টিকাদান কার্যক্রম চলছে।

আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে কুমিল্লা সদর হাসপাতালে কেন্দ্রে টিকা কার্যক্রম শুরু হয়। তবে সেখানে সকাল সাতটা থেকে টিকা নিতে আসে মানুষের ভিড় বাড়তে থাকে।

জেলা চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কেন্দ্র সরেজমিন সকাল ১১ টায় গিয়ে দেখা যায়, কক্ষে টিকা দেওয়া হচ্ছে। কক্ষ থেকে শুরু হওয়া লাইন হাসোতালে প্রাঙ্গণে মাঠ এঁকেবেঁকে একেবারে প্রধান ফটকের বাইরে চলে গেছে। বাইরে ও সামনের ঢাকা-চট্টগ্রাম সড়কেও এক শ থেকে দেড় শ মানুষের দীর্ঘ লাইন। সব মিলিয়ে অন্তত দুই হাজার মানুষ টিকা নিতে এই কেন্দ্রে এসেছেন।

লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা অন্তত ২০ জনের সঙ্গে কথা হলে তাঁদের মধ্যে সাতজন জানান, তাঁরা টিকার জন্য রেজিস্ট্রেশন করেছেন তিন দিন আগে। কিন্তু কোনো এসএমএস পাননি। তারপরও এসেছেন টিকা নিতে। তিনজন জানালেন, তাঁরা এসএমএস পাওয়ার পর আজ টিকা নিতে এসেছেন।

টিকাদান কক্ষের সামনে বেশ বড় জটলা দেখা গেল। সেখানে পেছন থেকে কয়েকজন ব্যক্তি কক্ষের ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করলে সামনে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষের সঙ্গে তাঁদের বাগ্‌বিতণ্ডা হয়।

টিকা নিতে আসা কুমিল্লা জেনারেল হাসপাতালে কলেজ ছাত্র শামীম অাহমেদ জানান ‘সকাল সাড়ে ৭ টায় এসেছিলাম। একটু আগে টিকা দিতে পারলাম। তবে ব্যাপক ভিড়, ধাক্কাধাক্কি; একটু ব্যবস্থাপনার অভাব বোধ করলাম।’

গতকাল বুধবার একদিনে কুমিল্লায় নগরীর জেনারেল হাসপাতাল টিকাকেন্দ্রে খুদে বার্তা ৮ হাজার ৩২০ জন টিকা নেওয়ার জন্য এসেছেন। কিন্তু সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত দীর্ঘ লাইনে ছিলেন। হাসপাতালের ছয়টি বুথে নারীদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। টিকা নিতে আসা ব্যক্তিদের সবার মুখেই মাস্ক ছিল।

এ বিষয় জানতে চাইলে জেলা ডেপুটি সিভিল সার্জন মো. শাহাদাত হোসেন বলেন,গত কয়েকদিন ধরে টিকা বুথ গুলো প্রচন্ড ভিড় রয়েছে। অামরা কাল থেকে টিকার জন্য কম লোককে ডাকা হবে। আগে যাঁরা বাকি ছিলেন, তাঁদের দেওয়া হবে।

জেলা সিভিল সার্জন মীর মোবারক হোসাইন বলেন, সকাল নয়টা থেকে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত টিকা দেওয়া যাবে। সবাই সকাল নয়টার মধ্যে এসে ভিড় করেন। যে কারণে মানুষের ভিড় বেশি। মানুষের মধ্যে ধারণা, পরে এলে মনে হয় টিকা পাবেন না। আসলেই বিষয়টি সে রকম না। টিকার যথেষ্ট মজুত আছে। মানুষ টিকা নিতে এখন প্রবল আগ্রহী। পুরো টিম টানা কাজ করে যাচ্ছে। তিনি সবখানেই গিয়ে মনিটরিং করছেন।

উল্লেখ্য জেলা গত ২৪ ঘন্টা সময় করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ১৫ জন, ৫ আগস্ট বিকেল পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ২ হাজার ৬১৮টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে।জেলায় এখন পর্যন্ত ৩২হাজার ৭৮৭ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ৭৭২জন।

গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন ১৫৫ জন। এনিয়ে মোট সুস্থ হলেন ১৭ হাজার ৫৬০জন।

After Related Post