৭ই অক্টোবর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, ২২শে আশ্বিন, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

কুমিল্লার বাজার তরমুজে ভরপুর, তবে ক্রেতা কম

নগর বাংলা২৪ ডট কম:
৪২
header

করোনাভাইরাসের কারণে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছেন কুমিল্লার তরমুজ ব্যবসায়ীরা। তরমুজের ভরা মৌসুম হলেও বিক্রি করতে না পারায় লোকসান গুনতে হচ্ছে জেলার অনেক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীকে। এদিকে লকডাউনের কারণে চরম বিপাকে পড়েছেন তরমজু চাষিরা। পাইকার কম। স্থানীয় বাজারেও ক্রেতা সংকটে আবার বাড়িতে ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হচ্ছেন। এমন পরিস্থিতিতে দিশাহারা হয়ে পড়েছেন।

তনু মিয়া। কুমিল্লার নগরীর পুলিশ লাইন এলাকার ফল ব্যবসায়ী। ১২ বছর ধরে তিনি এই এলাকায় তরমুজ ব্যবসা করে আসছেন। গত মৌসুমে করোনার কারণে দোকানপাট বন্ধ ছিলো। এবার তাই রোজাকে কেন্দ্র করে দুইটি তরমুজের চালান বরিশাল থেকে নিয়ে আসেন। গত কয়েকদিনে মাত্র ১০ টাকার তরমুজ বিক্রি করছেন। ক্রেতা না থাকায় পচে গেছে তার প্রায় ৪০ হাজার টাকার তরমুজ। তিনি বলেন, লডডাউনের কারণে কাস্টমার কম। আজ সারাদিনে মাত্র ৪ টি তরমুজ বিক্রি করেছি। রাস্তাঘাটে মানুষ হলেও তো মিয়া কাস্টমার আইবো। কি আর করমু সংসারে চালাতে বাধ্য হয়ে দোকান খুলে বসে আছি। দেখি ইফতারে সময় হয়তো কয়ডা কাস্টমার আইবো।

জেলার দাউদকান্দি উপজেলার কয়েকজন তরমজু চাষি জানান, মৌসুমের এ সময়টায় দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ব্যবসায়ীরা এসে তরমুজ কেনার জন্য তাঁদের বাড়িতে ভিড় জমাতেন। অথচ করোনার কারণে এখন একজন ক্রেতাও পাওয়া যাচ্ছে না। কৃষকের কাছে তরমুজ কিনতে আসা তো দূরে থাক, তাঁদের খুঁজেও পাওয়া যাচ্ছে না। উপায়ান্তর না পেয়ে তরমুজ চাষিরা নিজেরাই কোনোমতে বাজারে নিয়ে এসে পাইকারদের কাছে নামমাত্র মূল্যে তরমুজ বিক্রি করছেন। এতে ছোট-বড় প্রতিটি তরমুজের দাম ধরা হয় ৮০-৯০ টাকা করে। তবে মাঝারি আকারের একটি তরমুজ ঢাকার ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে কিনতে সাধারণ ক্রেতাদের গুনতে হচ্ছে ২০০-২৫০ টাকারও বেশি। কৃষকদের কাছ থেকে কম দামে কিনেও রাজধানীর ব্যবসায়ীরা বিক্রি করছে এমন চড়া দামে। ফলে ভোগান্তির রেশটা কৃষকের কাঁধেই রয়ে যায়।

জেলার মেঘনা ও দাউদকান্দি গোমতি চর থেকে চাষিরা তরমুজ নিয়ে এসে চান্দিনার নিমসার বাজার, চকবাজার,রাজগঞ্জ, রাণীরবাজার, পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড,ইলিয়টগঞ্জ বাজারে থরে থরে সাজিয়ে রেখেছেন। সেখানেই কথা হয় মেঘনা উপজেরার থেকে আসা তরমুজ চাষি মিজান রহমানের সঙ্গে। তিনি বলেন, এলাকায় কোনো পাইকার না পেয়ে দুই হাজার তরমুজ নিয়ে হাজির হয়েছেন নিমসার বাজারে। তিনি বলেন, ‘আমি খুব লোকসানের মধ্যে আছি। তরমুজের দাম ২৫০-২০০ টাকা, সেই তরমুজ বিক্রি করতে হচ্ছে ১২০-১৫০ টাকায়। অথচ চাষাবাদ থেকে শুরু করে প্রতিটি তরমুজের পেছনে খরচ পড়েছে ১৪০ টাকা।’ এ নিয়ে তিনি হতাশা প্রকাশ করেন।

রাজগঞ্জ বাজারের ব্যবসায়ী মাসুদ মিয়া বলেন, বর্তমানে তার দোকানে প্রায় দুই লাখ টাকার তরমুজ রয়েছে। কিন্তুলকডাউনের কারণে ক্রেতা আসতে না পারায় দোকান ভর্তি তরমুজ পড়ে রয়েছে।

After Related Post